একই সঙ্গে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমায় বিশ্ব পণ্যবাজারে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। ফলে এশিয়ার প্রধান এক্সচেঞ্জগুলোয় রাবারের সরবরাহ চুক্তি মূল্য (ফিউচার প্রাইস) উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
বাজার সূত্রে জানা গেছে, জাপানের ওসাকা এক্সচেঞ্জে (ওএসই) আগামী ডিসেম্বরে রাবারের সরবরাহ চুক্তি মূল্য প্রতি কেজিতে ৪ দশমিক ১৩ শতাংশ কমেছে। বাজার বন্ধ হওয়ার সময় প্রতি কেজি রাবারের দাম দাঁড়িয়েছে ২ ডলার ৬১ সেন্টে (৪২৩ ইয়েন)।
ব্যবসায়ীরা জানান, শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ থাইল্যান্ড সম্প্রতি চীনের জন্য আট হাজার টন রাবার সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। এর আগে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাবার ব্যবহারকারী দেশ চীনে পণ্যটির সরবরাহ আটকে রেখেছিল থাইল্যান্ড। বাজারে আকস্মিক এ নতুন সরবরাহের ঘোষণাকে নেতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন ফিউচার মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। ফলে বিশ্ববাজারে রাবার বিক্রির প্রবণতা অনেক বেড়ে গেছে।
থাইল্যান্ডের এ সিদ্ধান্তের প্রভাব চীনের বাজারেও বেশ স্পষ্ট। সাংহাই ফিউচার এক্সচেঞ্জে (এসএইচএফই) আগামী সেপ্টেম্বরে রাবারের সরবরাহ চুক্তি মূল্য প্রতি টনে ৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে ২ হাজার ৪৫১ ডলার ৮০ সেন্টে (১৬ হাজার ৬৮৫ ইউয়ান) নেমে এসেছে। পাশাপাশি একই এক্সচেঞ্জে বুটাডিন রাবারের দাম ৫ দশমিক ৪২ শতাংশ কমে প্রতি টন ১২ হাজার ৩৫ ইউয়ানে দাঁড়িয়েছে।
সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি ডলারের মূল্যবৃদ্ধিও রাবারের দাম কমাতে বড় ভূমিকা রেখেছে। গত বুধবার ডলারের মূল্যসূচক ১৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০১ দশমিক ৮ পয়েন্টে পৌঁছায় এবং বৃহস্পতিবারও তা শক্তিশালী অবস্থানে ছিল। ডলার শক্তিশালী হওয়ায় অন্য মুদ্রার ব্যবহারকারী ক্রেতাদের জন্য রাবার আমদানি বেশ ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে, যা বিশ্বজুড়ে পণ্যটির চাহিদা ও দাম কমিয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমছে। তেলের দাম কমার ফলে কৃত্রিম বা সিনথেটিক রাবারের উৎপাদন খরচ কমে যায়, যা প্রাকৃতিক রাবারের দামও কমিয়ে দেয়। সিঙ্গাপুর এক্সচেঞ্জের (সিকম) প্লাটফর্মে আগামী জুলাইয়ে রাবারের সরবরাহ চুক্তি মূল্য ৬ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি কেজি ২০৭ ডলার ৫ সেন্টে নেমে এসেছে।